Dearness Allowance – পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া DA নিয়ে বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা। খুশির হাওয়া কর্মী মহলে।

পশ্চিমবঙ্গের মহার্ঘভাতা তথা DA (Dearness Allowance) এর দাবীতে (Wage and Salary) মামলা, আন্দোলন, অনশন, ধর্মঘট প্রভৃতি কিছুই করতে বাকি রাখেন নি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারী কর্মী (Government Employees) ও শিক্ষক শিক্ষিকারা। তবে এই নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) নিশ্চুপ ছিলেন। তার অন্যতম কারন মূলত দুইটি। প্রথমত ডিএ বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। দ্বিতীয়ত কেন্দ্রের হারে (AICPI) রাজ্যে ডিএ দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ রাজ্যের কাছে বর্তমানে নেই। যদিও রাজ্য সরকারী কর্মীরা তা মানতে রাজি নন। তবে নিরবতার অবসান ঘটিয়ে এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারী কর্মীদের Dearness Allowance নিয়ে বিধানসভার অধিবেশনে নিজের বক্তব্য জানালেন।

Advertisement

West Bengal Dearness Allowance News

প্রসঙ্গত আর কয়েকমাস বাদেই ২০২৪ এর লোকসভা ভোট। এমতাবস্থায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের গদি বাগানোর চেষ্টা করতে মরিয়া। আমাদের রাজ্য সরকারও চেষ্টায় কোন ফাঁক রাখেনি এ ব্যাপারে। ইতিমধ্যে একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে রাজ্যবাসীর কল্যাণের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তবে তার চেয়েও বড় কথা হলো সেটা যেটি মুখ্যমন্ত্রী আজ জানিয়েছেন বিধানসভায়।

Advertisement

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (Dearness Allowance) দাবিতে এর আগেও অনেকবার মুখ খুলেছেন তিনি। কিন্তু আজ বিধানসভায় আরো একবার এই প্রসঙ্গে তিনি করলেন একটি বিশেষ মন্তব্য। তার এই ঘোষণা শুনে সান্তনা পেলেন সরকারি মহলের অনেক কর্মীরা। তবে কি এবার অবশেষে বাড়তে চলেছে ডিএ? কি আভাস পাওয়া যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে? দেখে নেওয়া যাক।

Pay Commission DA Calculation

কেন্দ্রীয় সরকার তার কর্মীদের বছরে দুবার DA দেয়। একটি জানুয়ারি এবং অপরটি জুলাই মাসে। এ বছর জানুয়ারি মাসে ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর পর ৪২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছিল তা। কিন্তু অক্টোবর মাসে আবারো জুলাই মাসের মহার্ঘ ভাতাটি বাড়ানো হয়। এক্ষেত্রে আরো ৪ শতাংশ Dearness Allowance বাড়ানোর ফলে এখন তা হয়েছে মোট ৪৬ শতাংশ। ফলে জিনিসপত্রের দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে কেন্দ্রের বেতন। আর এখানেই অসন্তোষের শুরু আমাদের রাজ্য সরকারি কর্মীদের।

School Teacher (পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক ও শিক্ষিকা)

টানা তিন বছর ধরে বিক্ষোভ চালিয়েছেন তারা। কিন্তু এই দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে রাজ্য সরকার মাত্র ৬% মহার্ঘভাতাই বাড়িয়েছে তাদের। তাদের অনেকের মন্তব্য, “এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ এটুকু আমাদের প্রাপ্য নয়।” কিন্তু রাজ্যের বিরুদ্ধে যতবার তারা সরব হয়েছেন ততবারই হতাশ হতে হয়েছে তাদের। গত অক্টোবর মাসে ১০ এবং ১১ তারিখ কর্মবিরতি পালন করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু তারপরও কোন লাভ হয়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষকরা এখন থেকে কলেজ শিক্ষকের মর্যাদা পাবেন। বেতন ও সম্মান দুটোই বাড়বে।

এছাড়াও গত ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে ছিল ডিএ মামলার একটি শুনানি । তাও পিছিয়ে ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারি মাস করে দিয়েছে আদালত। এমতাবস্থায় আদালতে কি হবে সেই আশা বাদ দিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে একটা কোন ভালো খবরের আশা করছেন তারা। তবেই মুক্তি হবে সেই হতাশা থেকে। আর মুখ্যমন্ত্রী আজ তাদের শোনালেন এই খবর।

বকেয়া ডিএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য

বিধানসভার বৈঠকে আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Dearness Allowance তথা বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, “মনে রাখুন কেন্দ্রীয় সরকার ৩-৪ দিন ছুটি দেয়। আর আমরা ৪০-৪৫ দিন ছুটি দিই। এই গুলো মাথায় রাখবেন। আমরা ১০ বছরে একবার বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আর ৫ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।” তিনি আরো বলেছেন, “অনেক রাজ্যেই সরকারি কর্মীদের পেনশন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সেখানকার সরকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র রাজ্য যেখানে এখনো পর্যন্ত পেনশন দেওয়া হয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের।”

আরও পড়ুন, কমোড নাকি দেশী প্যান? কোন টয়লেটি আপনার শরীরের পক্ষে ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতামত

এছাড়া তিনি আজ আরও জানান, এদিকে ‘ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কারও আপত্তি থাকলে চলে যান।” এছাড়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে অফিস বাদ দিয়ে আন্দোলন করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। যদিও আজ বাংলার সমস্ত বিধায়কদের বেতনবৃদ্ধির বিল পাশ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্যের পর মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, SAT এ ইতিমধ্যেই সরকারী কর্মীদের নৈতিক অধিকার বলে মান্যতা দিয়েছে। তাই এই মন্তব্য শোভনীয় নয়। তবে এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মেটানোর পক্ষে যে নয় রাজ্য সরকার, এমনটা ইঙ্গিত মিললো মুখ্যমন্ত্রীর আজকের মন্তব্যে। যদিও জানুয়ারীতে কেন্দ্রের হারে না মিললেও কিছুটা মিলতে পারে, সেই আশায় রয়েছে কর্মীদের একাংশ।
এবার আদৌ সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!

Leave a Comment