Citizenship Amendment Act – লোকসভা ভোটের আগেই সারা দেশে চালু হচ্ছে CAA Act. কারা নাগরিকত্ব পাবে? কারা পাবে না? কিভাবে আবেদন করবেন?

২০১৯ সালে বর্তমান সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের জন্য Citizenship Amendment Act বা ভারতের নাগরিকত্ব আইন বিল পাশ করে। এবং তা মাননীয় রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে আইন হিসাবে গৃহীত হয়। আর সেই থেকেই এই আইন নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের রাজ্য ও রাজনীতি সরগরম। এই নিয়ে অনেক প্রতিবাদ, মিছিল হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে। কিন্তু ফের একবারের জন্য এই শীতের মরশুমে এই বিষয় ফের একবারের জন্য উত্তপ্ত হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন (Lok Sabha Election 2024) আসন্ন। হাতে আর মাত্র কয়েকটা মাস।

Advertisement

Citizenship Amendment Act Implementation News In India.

আর এই ভোটের আগেই বিরাট সিদ্ধান্ত নিল মোদি সরকার (Modi Government) কি সিদ্ধান্ত? দেশজুড়ে বাস্তবায়ন করা হবে CAA বা Citizenship Amendment Act. এমনই পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government). খুব শীঘ্রই এই সম্পর্কে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলে সরকার সুত্রে খবর মিলেছে। আর তারপরেই দেশে লাগু হবে ওই আইন। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা থেকে স্পষ্ট হয় যে ভোটের আগেই এই আইন কার্যকর হতে পারে দেশে।

Advertisement

Citizenship Amendment Act সমগ্র দেশে লাগু হলে তারপর কি হবে? তারপর যারা এদেশের নাগরিকত্ব (Citizenship) পাওয়ার যোগ্য তারা থাকতে পারবেন, আর যারা যোগ্য নন তাদেরকে ছাড়তে হবে দেশ? এই নিয়ে এখন থেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ভারতের একাধিক মানুষ। আর এছাড়াও সকল রাজনৈতিক দলের নজরও এই দিকে রয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

২০১৯ সালে ভারতীয় সংসদ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (Citizenship Amendment Act) পাশ করেছিল। এই বিলের প্রধান লক্ষ্য ছিল পড়শী দেশ গুলি থেকে আসা উপযুক্ত ব্যক্তিদের ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা। একইসঙ্গে সেই সকল মানুষদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা যারা অবৈধভাবে এখানে এসে রয়েছেন। এই বিলের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান (Pakistan), আফগানিস্তান (Afghanistan) এবং বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারতে আসা রিফিউজিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হওয়ার কথা ছিল।

যাই হোক, ২০১৯ এ লোকসভায় প্রথম এই বিল পূর্ণ সমর্থন পেয়ে পাশ করেছিল। যদিও রাজ্যসভার কিছু সদস্য তার বিরোধিতা করে। কিন্তু তা সত্বেও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের (Former President Ram Nath Kovind) অনুমতি লাভ করে এই বিল (Citizenship Amendment Act) পাস হয় এবং আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকে।

Advertisement

CAA এর বিরোধিতা

কেন্দ্রীয় সরকারের এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (Citizenship Amendment Act) দেশের বেশিরভাগ স্থানে প্রশংসিত হলেও অনেক রাজ্য তা মেনে নিতে পারেনি। বিল পাশের পর প্রচন্ড উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বহুদিকে বিরোধিতা করা হয় এর। যে কারণে তখন এই আইন লাগু হতে পারেনি। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পুনরায় এই আইনের বিষয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে। সম্প্রতি কলকাতায় (Kolkata) একটি জনসভা করতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Home Minister Amit Shah) এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন।

তৃণমূল সরকারের (Trinomul Congress) প্রতি কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, CAA কার্যকর করা বিজেপির (BJP) প্রতিশ্রুতি। মমতা ব্যানার্জির সরকার টিএমসি এর বিরোধিতা করছে। তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন এই বিলের বিষয়ে। কিন্তু এই আইন চালু হবেই। পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে (Citizenship Amendment Act) বাস্তবায়ন করা ছিল বিজেপির একটি অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি।

কখন চালু হবে এই আইন

কেন্দ্রীয় সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন ২০২৪ এর মার্চ এপ্রিল মাস নাগাদ একটি নোটিফিকেশন জারি করা হবে Citizenship Amendment Act সম্পর্কে। তারপরই কার্যকর হবে এই আইন। খুব সম্ভবত, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশ জুড়ে বাস্তবায়িত করা হতে পারে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। আর এর ফলে এই নিয়ে অনেক সুবিধা পেতে চলেছে মোদী সরকার বলেও মনে করছেন অনেকে।

কিভাবে চালু হবে CAA

যেমনটা সরকারি সিদ্ধান্ত, ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগেই Citizenship Amendment Act এর কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি করা হবে অনলাইনে। যারা ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদেরকে অনলাইনে আবেদন জানাতে হবে। অনলাইনে কিভাবে আবেদন করতে হবে সেই প্রক্রিয়া পরবর্তীকালে বিজ্ঞপ্তি মারফত জানিয়ে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই ভারতের ৩০ টিরও বেশি জেলার ম্যাজিস্ট্রেটদের এই Citizenship Amendment Act বলবৎ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

Free Ration (বিনামূল্যে রেশন)

প্রধানত ভারতের নয়টি রাজ্য গুজরাত (Gujrat), রাজস্থান (Rajasthan), ছত্তিশগড় (Chattisgarh), হরিয়ানা (Haryana), পঞ্জাব (Punjab), মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh), উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh), দিল্লি (New Delhi) এবং মহারাষ্ট্র (Maharastra) এক্ষেত্রে নাগরিকত্ব দেবে সেই সকল আগমনকারীদের। বিভিন্ন নির্যাতিত অমুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে Citizenship Amendment Act আইনের মাধ্যমে।

আবার চালু হলো সেবা সখী প্রকল্প। এই প্রকল্পে প্রতিমাসে প্রায় ৮৫০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার।

উপরোক্ত পড়শী দেশ গুলি থেকে আসা যে সমস্ত ব্যক্তির পরিচয় পত্রের নথি রয়েছে তারা এদেশের নাগরিকত্ব লাভ করবেন। আর যাদের তা নেই তারা এ দেশ থেকে চলে যাবেন। Citizenship Amendment Act পশ্চিমবঙ্গে লাগু হলে কি হতে চলেছে সেই দিকে নজর সকলের। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ভবিষ্যতে সেই দিকে তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
Written by Nabadip Saha.

বছরের শুরুতেই নতুন চমক! আবারও দাম কমতে চলেছে রান্নার গ্যাসের।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!

Leave a Comment