ব্যবসা পরিকল্পনা – স্বল্প সময়ে ব্যবসায় সফল হতে মেনে চলুন চানক্যের এই কৌশলগুলো।

ব্যবসায় লক্ষ টাকা লাভের জন্য কাজে লাগান চাণক্য নীতি, ব্যবসা পরিকল্পনা সফল হবে।

আপনি যদি নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, কিম্বা ব্যবসা পরিকল্পনা (Business Ideas) করছেন, কিম্বা অনেকদিন ধরে ব্যবসা করেও সফল হচ্ছেন না, তারা চানক্যের এই টিপস গুলো ফলো করুন। এতে শুধু ব্যবসাতেই নয়, জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই সফল হতে পারবেন।

Advertisement

অর্থশাস্ত্র লিখেছিলেন কৌটিল্য। সেখানে তিনি বিভিন্ন লিডারশিপের সম্পর্কে নানান পদ্ধতির কথা বলে গেছেন। আজকে চাণক্যের বলা ব্যবসা পরিকল্পনার কৌশল নিয়ে আলোচনা করবো। এই সব বিষয়গুলি মাথায় রাখলে আপনার ব্যবসা শুরু করা, কম্পিটিশন ও ব্যবসাকে একটা বড় জায়গায় পৌঁছে নিয়ে যাওয়াটা আপনার পক্ষে খুবই সহজ হবে।

Advertisement

আজকাল মনোপলি ব্যবসার সিস্টেম আর নেই। এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আপনি যেই ব্যবসাই করুন না কেন আপনাকে কম্পিটিশনের সম্মুখীন হতেই হবে। তাই আপনি যেই ব্যবসাই শুরু করতে চান না কেন তার জন্য আপনাকে সচেতনভাবে ব্যবসা পরিকল্পনা করে সব বিষয় গুলি দেখে নিয়ে, সঠিক ব্যবসা পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। নাহলে সফল হতে অনেক সমস্যা হবে।

ব্যবসা পরিকল্পনার সমস্যা সমাধান করতে হলে যে যে বিষয়গুলি দেখে নেওয়া খুব দরকার সেগুলি আলোচনা করা হল।

প্রথমত, যেটি দরকার তা হল Power বা শক্তি।
শক্তি থাকলেই কোন ব্যবসা শক্তপোক্ত হয়। এই শক্তি কি কি থেকে পাওয়া যাবে? প্রথমত ব্যবসা পরিকল্পনার জন্য দরকার টাকা। টাকার পরে দরকার জ্ঞ্যান। আর অবশেষে দরকার উৎসাহ। এই তিনের সম্মিলিত প্রয়াসে শক্তি তৈরি হয় ব্যবসার জন্য।

বাড়ীর ছাদ, বারান্দা বা উঠোনে এই ব্যবসা করে মাসে লাখ টাকা ইনকাম করুন,

দ্বিতীয়ত, দরকার হল জায়গা।
আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য সঠিক মার্কেট থাকতে হবে অবশ্যই। যেমন ধরুন, বরফের জায়গা বাঁ শীতের সময় ফ্রিজের দোকান করলে চলবে না। পাইকারি জামা কাপড়ের মার্কেটের কাছে খুচরো জামা কাপড় বিক্রির দোকান করলে চলবে না। সুতরাং মার্কেটের ডিমান্ড দেখে দোকান বা ব্যবসা করতে হবে।

Advertisement

তৃতীয়ত, সঠিক সময়।
কারণ সময় মত ব্যবসা করতে হবে। দেখা যায়, কোল্ড ড্রিঙ্কস বাঁ সরবতের কোম্পানি গুলি গরমের সময়েই এর বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আর বিল্ডিং পেইন্ট করার কোম্পানি গুলি বর্ষা আসার আগে বা উৎসবের আগে অ্যাডভার্টাইজ করে ঘর রং করার জন্য। সুতরাং সঠিক সময়কে খুঁজে বের করে তা কাজে লাগাতে হবে।

এবারে বলবো ক্ষতির কথা। আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে পরিশ্রম বা অর্থ- এই দুয়ের থেকে যদি লাভ না হয় তাহলে উভয়ই নষ্ট হতে পারে। বিজনেস বাজেট সর্বদা ব্যবসা শুরু করার আগেই হিসেব করে নিতে হবে।
এরপর, যা বলবো তা হল ব্যবসার খরচ। ব্যবসার সকল রকমের আনুষঙ্গিক খরচের ব্যপারে আগে থেকেই সক্রিয় থাকতে হবে।

লাভ কেমন হতে পারে তার হিসেব আগে থেকেই করে নিতে হবে। এই লাভের সম্ভাব্য ক্যালকুলেশন করে নেয়া উচিত ব্যবসা শুরুর আগেই। কারণ কোন দেবে সাময়িক আবার কোন লাভ দেবে দীর্ঘ সময়ের জন্য। সেক্ষেত্রে উভয়কেই গুরত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এর পরে যেটি বলবো তা হল সমস্যা।

ব্যবসা করতে গেলে নানা রকম সমস্যা তো আসবেই। কিন্তু সেক্ষেত্রে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সঠিক কৌশল অবলম্বন করে উপায় বের করাই হল আসল উদ্দেশ্য। আগের থেকেই যতটা সম্ভব সম্ভাব্য সমস্যাগুলো লিস্ট করা ও তার সবগুলো সমাধানের উপায় বার করে রাখা। এই সমস্ত জিনিস খুব ভালো করে দেখে বুঝে আপনাকে মার্কেটে নামতে হবে।

এবার আপনাকে লিডারশিপ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। আপনি আপনার ব্যবসা বা অর্গানাইজেশন কে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তার উপর গুরুত্ব দেওয়াই হলো ম্যানেজমেন্ট। আচার্য চাণক্য এর মতে, আপনাকে আপনার ব্যবসার প্রধান দুটি বিষয়ে সদা সর্বদা গুরুত্ব দিতে হবে। তা হল ফিনান্স এবং ম্যানপাওয়ার। যেকোনো অরগানাইজেশনের সাকসেস বা সাফল্য নির্ভর করে সেই অরগানাইজেশনের ফিনান্সিয়াল কন্ডিশন এবং কর্মীদের কর্মক্ষমতা।

সুদক্ষ কর্মীরাই কম্পানিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। একজন ভালো লিডার আপনি তখনই হতে পারবেন যখন আপনি এই দুয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। কর্মীদেরকে তাদের প্রয়োজন মতো স্যালারি দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন তারা আপনার কোম্পানি ছেড়ে চলে না যায়। কারণ এরাই আপনার কম্পানিকে একটা লাভজনক জায়গায় নিয়ে যাবে।

Lottery তে ভাগ্যের চাকা ঘোরাবে এই 4 টি টিপস।

আপনার কম্পানিতে সঠিক লোকদের নিযুক্ত করতে হবে। সুদক্ষ কর্মী পারবে আপনাকে লাভের মুখ দেখাতে। তাদের ভালো ট্রেনিং ও ভালো স্যালারি দিন। এরপর বাজারে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীকে খুঁজে বের করুন। তার পজেটিভ আর নেগেটিভ, দুটি দিকই খুঁজে বের করুন।

ইউএসপি হল ইউনিক সেলিং পয়েন্ট অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসিং এমন কিছু স্পেশাল বিষয় থাকবে যেটা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী জানতে পারলেও তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ করতে পারবেনা। এর পর আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর দুর্বল জায়গা গুলি খুঁজে বের করুন। আর নিজের কম্পানিতে সেগুলিকে আপডেট করে ফেলুন। আপনার প্ল্যানিং বা আইডিয়া গোপন রাখা শিখতে হবে।

আপনার সমস্ত কিছু আপনার মনের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তবে সবসময় আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ফাইট করার মনোভাব রাখতে হবে তা নয়। প্রয়োজন হলে ইন্ডাস্ট্রির ওভারঅল ইমপ্রুভমেন্ট এর জন্য কোন কোম্পানির উচিত তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির সাহায্য করা।

আশা করি ব্যবসা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে চাণক্যের কৌশলগুলো আপনাদের অনেক কাজে আসবে। আপনি এই বিশেষ ব্যবসা পরিকল্পনার কৌশল গুলিকে নিজের হাতিয়ার করে নিজের ব্যবসা শুরু করলে সফলতা আসতে বাধ্য। এমন আরও আইডিয়া পেতে আমাদের সাথে থাকার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।
Written by Mukta Barai.

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!

Leave a Comment